ষাট বছরের কবিতা

আমাদের সময়ের বহুমাত্রিক আলোকমানুষ কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা । সমকালীন বাংলা কবিতার অন্যতম শীর্ষ কন্ঠস্বর এই কবির কাব্যপ্রয়াসের কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তিমানুষ, জাতিমানুষ ও বিশ্বমানুষের সমীকৃত প্রতীতি । জাতিসত্তার কবিরূপে বহুলনন্দিত তিনি দৈশিক ও বৈশ্বিক মানব- অস্তিত্বের নান্দনিক ভাষ্যকার । তাঁর সৃষ্টসত্তা নানা নিরীক্ষা, প্রকরণ ও উদ্ভাসে নিয়ত নবায়নপ্রবণ । স্বোপার্জিত কাব্যমুদ্রা ও নন্দনলোকের বরপুত্র এই বাঙালি কবি সমকালীন বিশ্বকবিতারও এক তাৎপর্যপূর্ণ কারুকৃত ।
২০০৯ সাল পর্যন্ত গ্রন্থাকারে প্রকাশিত তাঁর প্রায় সব কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল এই গ্রন্থ । সৃষ্টিশীলতা কবি নূরুল হুদার কাছে এক অবিচ্ছিন্ন সার্বক্ষণিকতা । এই সার্বক্ষণিকতা পরিব্যপ্ত স্রষ্টার অচেতন ও অবচেতন স্তরে । এই দুই স্তর পরস্পর অন্তর্প্রবিষ্ট,অন্তর্বয়িত । এটিকে সৃষ্টির পরোক্ষ প্রস্তুতি-স্তরও বলা যেতে পারে । সচেতন স্তরে এসে মূর্তভাষ্যে কবিতা-নির্মাণ সৃষ্টিশীলতার প্রত্যক্ষ পর্যায় ,যেখানে কবির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ স্তরের অভিজ্ঞতার নানামাত্রিক প্রতিফলন ও প্রতিসরণ সনাক্তযোগ্য ।