বালিকা আশ্রম


বাঙলা কবিতার এক সার্বভৌম অধ্যায়ের নাম আবু হাসান শাহরিয়ার । কবিতাকে তিনি 'একার সন্ন্যাস' বলেন । বিশ শতকের সাতের দশকে আবির্ভাব । তবে দশকচর্চার ঘোরতর বিরোধী ; বলেন - 'দশক গৌণ কবিদের আশ্রয়' । নিরন্তর সাধনায় নিজেকে তিনি বার-বার ভেঙেছেন এবং নতুন অনুষঙ্গে বিনির্মাণ করেছেন । নিজস্ব স্বরভঙ্গি এবং আলাদা প্রকাশপ্রকরণে রচনা করেছেন বাংলা কবিতার একাধিক নতুন বাঁক ।কী ছন্দে কী ছন্দোহীনতায় - উভয় ক্ষেত্রেই তিনি সমান সাবলীল । টানাগদ্যের ছদ্মাবরণে অক্ষরবৃত্তের পূর্ব-অনাস্বাদিত ছন্দবদ্ধ - অমিল বাক্যে চলতে-চলতে শেষ দুটি বাক্যে অন্ত্যমিল - বাঙলা কবিতায় এ নতুন প্রকাশপ্রকরণের জনক তিনি । এছাড়াও আবহমান বাঙলা কবিতায় যুক্ত করেছেন 'ষষ্ঠীপদী' নামের নতুন এক আঙ্গিক । নদীতীরবর্তী ব্রাত্য জনপদে ঘুরে- ঘুরে প্রান্তিক জনপদের বহুরৈখিক বিস্তার প্রত্যক্ষ করা তার নেশা । সেখান থেকে কুড়িয়ে আনেন জীবনের জলরঙে আঁকা হাজার বছরের আয়ুস্মতী শব্দাবলি ।বাকসংযমী কবি তিনি । শব্দকে পরাতে জানেন নৈ:শব্দ্যের বর্ম - বাজাতেও জানেন ছত্রিশ ব্যণ্জণে । এক কথায় আবু হাসান শাহরিয়ারের কবিতা এক বহুরৈখিক শব্দজনপদ ,হাজার অতীতকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যৎবর্তী বৃহত্তর সমকালের দিকে যার যাত্রা । সেই অভিযাত্রারই এক স্বতন্ত্র অধ্যায় 'বালিকা আশ্রম' । প্রাচ্য ও বিশাল বাঙলার চালচিত্রে রচিত এই কাব্যের পরতে-পরতে ছড়িয়ে আছে মহাকাব্যিক ব্যণ্জনা । ৭৬ সর্গে রচিত এ কাব্যগ্রন্থে অতীত- বর্তমান -ভবিষ্যতের ভেদরেখা মুছে ফেলে এক বৃহত্তর কালমন্চ রচনা করেছেন আবু হাসান শাহরিয়ার । প্রেমকাল,দেশকাল, প্রাচ্যকাল, পৃথিবীকাল, রাত্রিকাল -শোভিত মন্চের মাঝখানে বসিয়েছেন তেভাগার স্বপ্নবান কৃষককে । দলিত মানুষ আর বিধ্বস্ত নিসর্গের চরিতাভিধানও বলা যেতে পারে কাব্যটিকে । মুখ্য প্রণোদনা - চিরকালীনতা । মহাকাব্যধর্মিতার স্বার্থেই প্রকাশপ্রকরণে বহুরৈখিক । প্রাচ্যের ইতিহাস, পুরাণ, ভূগোল, ঐতিহ্য ও লোকনিজস্বতার বিপুল ভাণ্ডার  এই কাব্য । ছত্রে-ছত্রে চিত্রকল্পমণ্ডিত ব্যন্জনা ।রন্ধ্রে-রন্ধ্রে পরাবাস্তবতা ।
 প্রকাশক     : প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, বাংলাপ্রকাশ , ৩৮/২ খ বাংলাবাজার , ঢাকা
 পরিবেশক  : লেকচার পাবলিকেশন্স লিমিটেড, ঢাকা
 প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ : ধ্রুব এষ
 মূল্য          : ২০০ টাকা ।