মৌর্য সম্রাট প্রিয়দর্শী অশোক

সামিয়া কালাম

শানজিদ অর্ণব নামের এক তরুণ এবং অনুসন্ধিৎসু লেখকের বই“মৌর্য সম্রাট প্রিয়দর্শী অশোক” প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশেরসৃজনশীল প্রকাশনী 'দিব্য প্রকাশ' থেকে ।
সমসাময়িক এবং যুগোপযোগী এক শাসক  অশোক। যিনি বহুবছর “ দেবানমপিয়া পিয়াদসী” নামে এক রহস্যে অনন্মোচিত হয়েছিলেন। আপন ভাই এবং একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সুসিম কে হত্যাকরতে তার সামান্য দ্বিধা হয়েছিলো কিনা তা জানা যায়নি। তবেসিংহাসন এবং ক্ষমতার জন্য ভাতৃহত্যা যেন এক প্রচলিত পন্থা, যাযুগে যুগে ঘটে এসেছে বহুবার । অশোকের মাঝে ছিল নেতৃত্ব, দৃঢ়তা, নিষ্ঠুরতা । একই সাথে প্রণয় ও মানবিকতার উৎকৃষ্ট প্রমাণবইটির বিভিন্ন  অধ্যায়ে পাওয়া যায়। কিন্তু জীবনের প্রারম্ভে তাকেএমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, যা অতিশয় অমানবিকও বটে ।দেবী নাম্নী এক নারীর প্রতি প্রণয় এবং দেবীকে  ত্যাগ করেসিংহাসন ও রাজ্য বাঁচান অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজা বা ঋষিসে যেই হোক না কেন; মানুষ তো! লেখক এই বিষয়গুলোতে কেবলতথ্য নির্ভর হয়েছেন। শব্দের পর শব্দ কেবল কোটেশন দিয়েগেছেন। আব্রাহাম এরালি, হিউয়েন সাঙ, ডি পি সিংহল, আর এসত্রিপাঠী; সহ বহু মনিষীর অশোক সম্পর্কীয় উক্তি গুলোকে আরওব্যাখ্যা করলে পাঠকের জন্য বইটি তুলনামূলক ভাবে সুখপাঠ্যহতো।
“ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মানুষের মৃত্যু নেই আর উদাসিনরা বেঁচে থাকে মৃতেরমতো" - সাত বছরের এক শিশুর মুখে এই অসামান্য বাণী রাজাঅশোক কে আলোড়িত করেছিল। সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠারপরিচয় অশোক দিয়েছিলেন তার যৌবনেই। প্রথমত তিনি কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করেছিলেন , দ্বিতীয়ত যুদ্ধ জয়ের পরিবর্তেধর্ম জয়ের পথ গ্রহন করেন। অশোক সাম্রাজ্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, মানচিত্র ( অপ্রামান্য), শিলা লিপি, অশোকস্তম্ভের চিত্র ইত্যাদিবইটিকে বিভিন্নভাবে সমৃদ্ধ করেছে ।
কলিঙ্গ যুদ্ধ কে একটি মাইল ফলক হিসেবে লেখক আখ্যাদিয়েছেন, কারন এই যুদ্ধের ভয়াবহতার পর রাজা অশোকযুদ্ধনীতি থেকে সরে এসে ধর্মনীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা আরম্ভকরেন। কিন্তু অশোকের মাঝে পূর্বে থেকেই অহিংসা এবং জীবেদয়ার প্রবনতা ছিল।
লেখক অশোকের অনুশাসন অধ্যায়ে একটি মতামত প্রদানকরেছেন, যা পড়ে সত্যি আলোড়িত হয়েছি। “ অশোক হয়তো প্রজাএবং ভবিষ্যতের মানুষদের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপনে আগ্রহিছিলেন। আজ আমরা আশোক সম্পর্কে যা কিছু জানি তার মূলউৎস শিলালিপি। কে জানে! অশোক হয়তো এভাবেই বেঁচে থাকতেচেয়ে ছিলেন।”
রাজা আশোকের শিল্প কর্ম, শাসননীতি, ধর্মনীতি ইত্যাদি বিভিন্নবিভাগে বিভক্ত করে, সে সাথে চিত্রের সংযুক্তি, গবেষক ব্রুস রিচেরবিশেষ প্রবন্ধের সংযুক্তি বইটিকে ইতিহাস ও ভূগোলের মিশেলেআকর্ষণীয় ও মূল্যবান করে তুলেছে । তথ্যনিষ্ঠ বিশ্লেষণে এসবকেবিষয়ীভূত করেছেন লেখক তবে পাঠকের জন্য আরও সহজপাঠ্যকরে রাজা অশোক “দেবানমপিয়া পিয়াদসী” কে উপস্থাপন করারপ্রয়াসের অভাবও লক্ষ্য করা গেছে ।তদুপরি ইতিহাসকে জানতেহলে তথ্য দিয়েই জানতে হয়। সে সাথে ঘটনাক্রমের সহজিয়াবিবরন থাকলে পাঠক আরও বেশি আনন্দ নিয়ে বইটি পড়তেপারত । এছাড়া বইটির মুদ্রণ-পারিপাট্য প্রশংসনীয়, ছাপার ভুলনেই বললেই চলে । 'দিব্যপ্রকাশ'-এর কাছ থেকে এই প্রাপ্তিটুকুপাঠককূলের প্রত্যাশিতও বটে ।