দুই বাংলার শ্রেষ্ঠ সমকালীন প্রেমের গল্প

অন্যের জন্য মন কেমন করার নাম ভালোলাগা। ভালোলাগা থেকে প্রেম-ভালোবাসা। আর প্রেম হচ্ছে শাশ্বত-সুন্দর একটি অভিধা। মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা। ভালোবাসার সংজ্ঞা বিতর্ক, অনুমান এবং অন্তদর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রেম-ভালোবাসা প্রাণে-প্রাণে, কিংবা প্রাণে-বস্তুতে হয়। বস্তুতে-বস্তুতে প্রেম ভালোবাসার কোনো সম্ভাবনা নেই। মূলত নর-নারীর প্রেমই যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। চিরন্তন প্রেমের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলেছে। আবেগতাড়িত করেছে। সাধারণ মানুষ থেকে রাজা-বাদশাদের মনেও প্রেমের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। প্রেমের ইতিহাস রচিত হয়েছে।
কবি-সাহিত্যিকদের এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে কোনো পঙ্ক্তি লিখেননি। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশসহ প্রায় সকল লেখকের লেখায় চোখ বুলালে তা স্পষ্ট ফুটে ওঠে।
 ভালোবাসা শ্রদ্ধা, আবেগ. সহানুভূতি, স্নেহ-বিশ্বাসের সমস্বরে তৈরি একটি অদৃশ্য বিষয়। আবার ভালোবাসার সাধারণ এবং বিপরীত ধারণার তুলনা করে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভালোবাসাকে জটিলভাবে বিবেচনায় আনা যায়। ধনাত্মক অনুভূতির কথা বিবেচনা করে ভালোবাসাকে ঘৃণার বিপরীতে স্থান দেওয়া যায়। ভালোবাসায় যৌনকামনা কিংবা শারীরিক লিপ্সা একটা গৌণ বিষয়। এখানে মানবিক আবেগটাই মুখ্য। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনুযায়ী জৈবিকভাবে মস্তিষ্কের বিভিন্ন হরমোন ভালোবাসায় অনুভূত তৈরিতে সাহায্য করে । কিংবা ভালোবাসায় যখন ছেদ ঘটে, মনের অনুভূতিতে যখন তীর এসে আঘাত করে তখন কাব্য হয় বেদনার। ছায়া পড়ে বিষাদের।
সময়ের সাথে প্রেম-ভালোবাসার বাহ্যিক পরিবর্তন ঘটলেও আবেগ-অনুভূতি চিরন্তন।
দুই বাংলার সমকালীন প্রেমের গল্প গ্রন্থের শিরোনামে যা বিবেচনায় আনা হয়েছে, তা হলো লেখকদের সময়কে স্পর্শ করা। কেননা, প্রেমের কোনো কাল-আকাল নেই। পরিবেশ-পরিস্থিতিতে এসবের রং পাল্টায় শুধু। ঢং পাল্টায় না।
সংগত কারণেই ব্যাখ্যা করা চলে, সমসাময়িককালে বাংলা সাহিত্যের যেসব লেখক প্রেম-ভালোবাসার গল্প লিখেছেন, তাদের লেখা নিয়েই এই সংকলন।

প্রকাশক    : প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, বাংলাপ্রকাশ