এশিয়ার কবিতা

বিপুল এক মহাদেশ এশিয়া । আয়তনে, সম্পদে ও দারিদ্র্যে । পর্বত- সমূদ্র - মরুর মতো বিচিত্র এই মানুষগুলো, বিচিত্র এর হাজার হাজার বছরের কথ্য-লেখ্য সাহিত্যের ঐতিহ্য । ইউরোপ, আমেরিকা, এমন কি আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার কবিতা অকবিতায় আমাদের কতো আগ্রহ, অথচ বাড়ির কাছের আরশি নগরটি যেন গেঁয়ো যোগী । কেমন লিখছেন এশীয় কবিরা ? তাঁরা কি আধুনিক, উত্তর আধুনিক নাকি প্রাগৈতিহাসিক ?
এশিয়ার সব দেশেই কি কবিতার চর্চা হয় ? হয় বটে, তবে তার উৎকর্ষ এক নয় । কোথাও কোথাও কবিতা এখনো চর্যাপদের যুগে । কোথাও ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ তো দূরের কথা, কোনো আন্তর্জাতিক ভাষায়ও অনূদিত হয়নি । বিশ্বায়নের যুগে তাদের কবিতা বস্তুত প্রত্নসামগ্রী । এর বিপরীতে অনেক দেশেই অসাধারণ কবিতা লেখা হচ্ছে । কবিরা লিখছেন বিশ্বমানের কবিতা ।
'এশিয়ার কবিতা' এ উপমহাদেশের উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য কবিতার অনুবাদ ।

হোয়াইট মোগলস্

হোয়াইট মোগলস্ আবেগপূর্ণ প্রেমের একটি বিয়োগান্তক কাহিনী যা সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সীমারেখাকে অতিক্রম করেছে। জেমস অ্যাকিলিস কার্কপ্যাট্রিক ছিলেন হায়দরাবাদের নিজামের দরবারে নিয়োজিত ব্রিটিশ রেসিডেন্ট। এক অসাধারণ রূপসী কিশোরী কন্যা খায়র উন নিসার প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করেন। এ জন্য তাকে বহু বাধা-বিপত্তির মোকাবেলা করতে হয়েছিল। খায়র উন নিসা ছিলেন নিজামের দরবারে নিয়েজিত বক্‌শি (paymaster) বকর আলি খানের নাতিনি এবং নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বংশধর। তিনি কেবল পর্দা প্রথায় বন্দী ছিলেন তা-ই নয়, অন্য একজন ওমরাহের বগদত্তাও ছিলেন। বিষয়টি হায়দরাবাদে ব্রিটিশদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছিল।
এটি প্রেম, প্রলোভন, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রেমিক-প্রেমিকার গোপন মিলন, প্রাসাদ চক্রান্ত, হারেমের রাজনীতি এবং পারিবারিক টানাপোড়নের এক অসাধারণ কাহিনী। শ্বেত মোগলরা ভারতীয় পোষাক ও রীতিনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় উপনিবেশিক শাসকরা বিব্রত হয়ে পড়েছিল। হায়দরাবাদে নিয়োজিত রেসিডেন্ট কার্কপ্যাট্রিকের আচরণে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে কয়েকবার তদন্তও করেছিল।
এই অঞ্চলে ব্রিটিশদের জন্য রাজনৈতিক বিষয়ে অত্যন্ত উপযোগী ও উদ্দেশ্য হাসিলের উৎপাদক ছিলেন কার্কপ্যাট্রিক। তিনি হায়দরাবাদের নিজামের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ

অনুচ্চার কবিতা ভ্রমণ

মৃণাল বসুচৌধুরী

কবি তানিয়া চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ “কিছু একটার জন্য” হাতে পেয়েছিলাম প্রায় বছরখানেক আগে।বলতে দ্বিধা নেই, এই নামকরণের পেছনে কবির ভাবনচিন্তা যাই হোক না কেন,প্রকাশভঙ্গি আমাকে কৌতুহলী করেছিল। সাধারণভাবে অনেক কবিই হয়ত “একটা কিছুর জন্য” নামটি বেছে নিতেন, কিন্তু তানিয়া “কিছু একটার জন্য” নামটির মধ্যে দিয়েই বোধহয় প্রচলিত ধ্যানধারনাকে একটু সরিয়ে রাখলেন--- সশব্দে নয়, আলগোছে। একসময়, ষাটের দশকে “শ্রুতি” আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকায়, কবিতা সম্পর্কে আমার নিজস্ব কিছু ধারণা আছে। আমার সেই বিশ্বাস, সেই উপলব্ধি আমায় কবিতা লেখায়।কিন্তু কোনো গোঁড়ামি নেই। আর পাঠক হিসাবে আমি সমস্ত সময় অপেক্ষা করি সেইসব কবিদের জন্য,যাঁরা আমার বিশ্বাসের দূর্গের মধ্যে একটু তোলপাড়, একটু ভাঙাচোরা করে নিয়ে আসবেন অন্যরকম কবিতা।অদৃশ্য শিকড় ধরে, শব্দ মূর্ছনায় নাড়িয়ে দেবেন আমাদের মেধা ও মনন।কবি তানিয়া চক্রবর্তীকে আমার তেমনই একজন কবি মনে হয়েছে।এ প্রসঙ্গে দু’ একটি কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন বইটি যখন হাতে পাই, তখনই জেনেছিলাম তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত  হয়েছিল জুন ২০১১ এ,কবিসম্মেলনে। ঠিক তার দেড় বছর পরেই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ।এর আগে, এমন ঘটনা খুব একটা চোখে পড়েনি আমার।বুঝতে অসুবিধা হয় না, কবিতা প্রকাশ নয়, কবিতার

একজন আরজ আলী

সমকালীন ব্যক্তিত্ব নিয়ে উপন্যাস লেখা দুরূহ তো বটেই, কখনো কখনো লেখকের জন্যে বিব্রতকরও বটে। কথাসাহিত্যে এই অ্যান্টি-হিরোর কালে বড়ো মাপের ব্যক্তিত্বকে নায়ক করে উপন্যাস লেখা ব্যতিক্রমধর্মী সাহসের কাজ। অ্যান্টিহিরোদের দুর্বলতা ও অবক্ষয়ের দৌরাত্মে হিরোরা শক্তি ও সাহস নিয়ে কাচুমাচু হয়ে থাকে। হাসনাত আবদুল হাইয়ের প্রেরণা মানুষের শক্তি, মানুষের ক্ষমতা ও মানুষের সাহস। প্রতিভাবান, শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব নিয়ে উপন্যাস লেখার উদ্যোগ হাসনাত আগেও নিয়েছেন এবং তাঁদের আবেগ ও প্রেরণা, স্বভাব, ভাবনা এবং ক্ষোভ ও বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করার জন্যে উপন্যাসের প্রচলিত রীতির বাইরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে হাসনাত আলাপ করেন, দিনের পর দিন তাঁদের কথা শোনেন। তিনি নিজেও কথা বলেন, কেবল প্রশ্ন করা নয়, মতামত দেন, মন্তব্য করেন এবং এইসব সংলাপেই পাঠক আরজ আলীর সংশয়, তাঁর বিদ্যাচর্চা, সংকট, তাঁর লেখা, লেখা ছাপা, বই প্রকাশ, বইয়ের প্রচার প্রভৃতি বিষয়ে জানতে জানতে নায়ককে চিনতে পারেন। বলতে গেলে এইসব সংলাপের বিন্যাসেই গড়ে ওঠে উপন্যাস। - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

মায়াবৃক্ষের মায়াকথন

কামরুল ইসলাম

নাহিদা আশরাফী'র গল্পগ্রন্থ 'মায়াবৃক্ষ'।রহস্যময় জীবনের নানাপীড়ন, নাগরিক সমাজের অভিঘাত, স্নেহ-প্রেম-ভালবাসার বিচিত্র অনুষঙ্গ, জীবন যাপনের কোমল সৌন্দর্য , বিষাদের নিবিড় বৈপরীত্য যেন মানবিক উপলব্ধির গভীর প্রত্যয়ে গল্পের বিষয়সমূহে সন্নিবেশিত । অভিনবত্বের নিবিড় আনন্দ-উজ্জ্বল অভিজ্ঞতা সুপরিস্ফুট গল্পে,  এ যেন অর্ন্তজগত ও অর্ন্তজীবনের অনুভবে উপলব্ধির বৈচিত্রময় প্রকাশ ।
গল্পের বিন্যাস সমাজের সাথে পরিবারের সংযোগ ও বৈপরীত্যে জীবনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনা অতি নিপুণতায় শব্দের অনুষঙ্গে উপস্থাপিত ।  এ যেন গল্পকারের শিল্প প্রতিভা ও সৃষ্টির অনবদ্য প্রকাশ । 'আমার লেখক হয়ে ওঠার গল্প' সত্যিই শিল্প প্রতিভার অভূতপূর্ব উন্মেষকে তিনি  চিত্রায়িত করেছেন । পরীক্ষার সময় বাইরে সাদা সাদা  বকের প্রতি দৃষ্টিমুগ্ধ অনুভূতি গণিতের খাতায় ছড়া আকারে লিখে রাখার কোমল উজ্জ্বল সৃষ্টিশীলতা জীবনের মুহূর্তগুলোয় পরিপূর্ণ হয়ে আছে । আর এই সৃজনশীলতার উদ্যমে বাবার অনুপ্রেরণা, মায়ের সাহিত্য অনুরাগ যেন পাথেয় ও আর্শীবাদ । তবু বাসনার অতৃপ্তি প্রতিমুহূর্ত প্রকৃতির বৈচিত্রের মতো ঐশ্বর্যময় করে তোলে তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে, কী কাব্যে, কী গল্পে, সর্বত্র ।
সমাজ ও পরিবার মিলেই রাষ্ট্র নামক ভূখণ্ডে ব্যক্তি মানুষের যাপিত জীবন, সেই জীবনে 'অনুষঙ্গ পুরাণ,  একজন মিথ্যেবাদী মা ও তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক সন্তান , একটি অসমাপ্ত চিঠির গল্প,

কোহেকাফের সলতা

হেকাফ নগর সেই মানব জাতির সূচনালগ্ন থেকে বিখ্যাত ৷ এখানে বসবাস করে জ্বীন-পরীসহ যাবতীয় অশরীরীরা ৷ সেখানে কোহেকাফ রাজার তত্ত্বাবধানে আছে এমন এক আজব চেরাগ যার সলতে জ্বলে দ্রাক্ষারসে, এবং যেটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হীরক ‘শাহিন হীরা’ র উপর স্থাপিত ৷ এর অগ্নিরশ্মি বাহারী ৷ এর মাধ্যমে তারা তাদের রূপ পরিবর্তন করে ৷ পারস্য সভ্যতা অবধি তাদের আধিপত্য ছিল পৃথিবীর বুকে, যার নিদর্শন এখনো বর্তমান ৷ সেই ভাবগুলোর টুকরো নিয়ে রচিত হয়েছে এ গ্রন্থের গল্পগুলো , যা পাঠককে দেবে অন্যরকম স্বাদ ৷
রায়ান নূর বর্তমান সময়ের একজন অন্যতম কবি ও কথাসাহিত্যিক  ৷ তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রপত্রিকায় কবিতা,গল্প,প্রবন্ধসহ গবেষণামূলক লেখালেখি করে পাঠকমহলের নজর কেড়েছেন ৷ তিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যয়নরত ৷ এছাড়াও তিনি তিনটি লিটলম্যাগের সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে আছেন ৷ ২০১৫ সালে প্রকাশিত তার সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ ‘ বেনসন সাহেবের বৈজ্ঞানিক কারখানা (গ্লোব লাইব্রেরী) ’ ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায় ৷ এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ তে বিভিন্ন আঙ্গিক আর প্রেক্ষাপটের আঠারোটি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘ কোহেকাফের সলতে ’ ৷
প্রকাশক   :  গ্লোব লাইব্রেরী
প্রচ্ছদ       :  আফসার নিজাম ৷
মূল্য         :   ১২০ টাকা ৷

ক্ষণচিন্তা

গ্রন্থটির নামের মধ্যেই এর কিছুটা চরিত্র ধরা পড়েছে, অর্থাৎ এই রচনাগুলো যেমন অসম্ভব রকম ক্ষণকালীন, যা পুরোপুরি প্রকাশিত হওয়ার আগেই হারিয়ে যায়; অপরদিকে হারিয়ে গিয়েও নিত্য-নতুনভাবে প্রকাশিত হতে থাকে; যেখানে ক্ষণকালীনতা ও ক্ষণজন্মার মধ্যে মূলত কোনো পার্থক্য থাকেনা । এই গদ্যগুলোর সঙ্গে কবিতার একটি সম্পর্ক রয়েছে ; লেখার আগের বা পরে এমন কোনো মহতচিন্তা কিংবা পরিকল্পনার কাঠামো বিস্তার ছাড়াই এগুলো রচিত হয়েছে ; ফলে গদ্য আর কবিতাকে এখানে পার্থক্য করা হয়নি ।এই রচনাগুলোকে লেখকের আত্ম-জীবনীর অংশও বলা যেতে পারে ,যে সময়গুলো প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে ,তারও কিছুটা এই বইতে ধরতে চাওয়া হয়েছে ।একই সঙ্গে এই রচনাগুলো তুচ্ছতার ভাষ্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে ; সকল চিন্তার তুচ্ছতা থেকে আরও তুচ্ছতার দিকে ধাবিত হয়েছে ।এই রচনাগুলোতে প্রতিষ্ঠিত কিছু তাত্ত্বিকতা ভেঙে নতুন প্রকল্প হাজির করা হয়েছে । এই বইটি পড়ে মনে হতেই পারে বাঙালি মানসে সমকালীন চিন্তার টানাপোড়েন নিয়েই হয়তো এখানে আলোচনা হয়েছে, অথবা চিন্তা নিয়ে দীনতার অবকাশ ছিলনা কোনোকালেই ।
প্রকাশক  :  দেশ পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ     :  মোস্তাফিজ কারিগর
মূল্য       :  ৪৪০ টাকা

দুই বাংলার শ্রেষ্ঠ সমকালীন প্রেমের গল্প

অন্যের জন্য মন কেমন করার নাম ভালোলাগা। ভালোলাগা থেকে প্রেম-ভালোবাসা। আর প্রেম হচ্ছে শাশ্বত-সুন্দর একটি অভিধা। মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা। ভালোবাসার সংজ্ঞা বিতর্ক, অনুমান এবং অন্তদর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রেম-ভালোবাসা প্রাণে-প্রাণে, কিংবা প্রাণে-বস্তুতে হয়। বস্তুতে-বস্তুতে প্রেম ভালোবাসার কোনো সম্ভাবনা নেই। মূলত নর-নারীর প্রেমই যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। চিরন্তন প্রেমের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলেছে। আবেগতাড়িত করেছে। সাধারণ মানুষ থেকে রাজা-বাদশাদের মনেও প্রেমের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। প্রেমের ইতিহাস রচিত হয়েছে।
কবি-সাহিত্যিকদের এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে কোনো পঙ্ক্তি লিখেননি। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশসহ প্রায় সকল লেখকের লেখায় চোখ বুলালে তা স্পষ্ট ফুটে ওঠে।
 ভালোবাসা শ্রদ্ধা, আবেগ. সহানুভূতি, স্নেহ-বিশ্বাসের সমস্বরে তৈরি একটি অদৃশ্য বিষয়। আবার ভালোবাসার সাধারণ এবং বিপরীত ধারণার তুলনা করে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভালোবাসাকে জটিলভাবে বিবেচনায় আনা যায়। ধনাত্মক অনুভূতির কথা বিবেচনা করে ভালোবাসাকে ঘৃণার বিপরীতে স্থান দেওয়া যায়। ভালোবাসায় যৌনকামনা কিংবা শারীরিক লিপ্সা একটা গৌণ বিষয়। এখানে মানবিক আবেগটাই মুখ্য। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনুযায়ী জৈবিকভাবে

একাত্তরে পাক বর্বরতার সংবাদভাষ্য

প্রকাশক : ফরিদ আহমেদ, সময় প্রকাশন, বাংলাবাজার, ঢাকা ।
স্বাধীন বাংলাদেশ-এর অভ্যুদয় একটি সর্বজনীন স্বাধীনতাযুদ্ধের মাধ্যমে, বহুসংখ্যক বাঙালি নরনারীর জানমাল-সম্ভ্রমের বিনিময়ে । তা সত্ত্বেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য আমাদের চৈতন্যের প্রয়োজনীয় মাত্রায় স্পর্শ করে নি । এমন কি আমাদের জাতি- জাতীয়তাবোধ ও রাষ্ট্রীয়গণতান্ত্রিকতা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন । প্রশ্ন ইতিহাস-চেতনা নিয়েও ।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন থেকে একাত্তরের যুদ্ধশেষ অবধি সময়-পরিসরে দেশী-বিদেশী ( মূলত বিদেশী )পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ঘটনাবলীর সংবাদভাষ্য নিয়ে বিচার বিবেচনা ও মূল্যায়ন এবং সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তি- পরাশক্তির ভূমিকা বিচার এ বইয়ের আলোচ্য বিষয় । তাছাড়া রয়েছে উল্লিখিত সংবাদভাষ্যে পরিস্ফুট রাজনীতি ও পাক-বর্বরতার চরিত্রবিচার এবং হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টের ভিত্তিতে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে পাক শাসক ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা মূল্যায়ন । উদ্দেশ্য অতীত ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকিয়ে বাঙালি যেন নিজেকে খুঁজে পায়, বুঝে নিতে পারে কোথায় তাদের ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি ।

সরহ পা

অষ্টম শতকের এক প্রথাবিরোধী কবি সরহ পা । তাঁকে নিয়ে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমতটের পটভূমিতে লেখা এই উপন্যাস - যা উচ্চতা , মান ও রুচিতে অনন্য সাধারণ । সরহ পা ছিলেন অষ্টম শতকের ব্যতিক্রমধর্মী এক সাধক-কবি ।চর্যাপদে তাঁর চারটি পদ বা কবিতা রয়েছে ।তবে দেশে বিদেশে তাঁর সুখ্যাতি দোহা রচয়িতা হিসেবেই । 'দ্য থ্রি সাইকেলস অব সরহ'স দোহা' পাশ্চাত্যে বেশ পরিচিত । তিনি বৌদ্ধ সহজিয়া মতবাদের প্রতিষ্ঠাতাও ।তিব্বতের তেঙ্গুরে ৭৫০ থেকে ১১৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মহাসিদ্ধাদের মধ্য থেকে চুরাশিজনের একটি তালিকা সংরক্ষণ করা হয় । সেই তালিকায় সরহের নাম শীর্ষে । সরহের ব্যক্তিজীবন বড় বিচিত্র । জন্ম এক বিখ্যাত ব্রাহ্মণ পরিবারে , তাঁর নাম রাখা হয়েছিল রাহুল ভদ্র । নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে ছাত্র ,পরে অধ্যাপক হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেন । এ সময় ধর্মান্তরিত হয়ে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন । কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে পদত্যাগ করে চলে আসেন । সম্রাট অশোকের সময় থেকে প্রচলিত 'বিনয়পরম্পরা' মান্য করে ভিক্ষুগণ স্ত্রী গমণ এবং মদ্যপান হতে বিরত থাকেন তবে সরহ এক অন্ত্যজ রমণীকে বিয়ে করেন এবং মদ্যপানে প্রবৃত্ত হন ।
বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী বা বিপ্লবী কবি বলতে মধুসূদন , নজরুল এবং সুকান্তের নাম মনে আসে ।